চলতি মৌসুমে ৩৫০ কোটি টাকার সুপারি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

লক্ষ্মীপুরে সুপারি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় দিন দিন এ অঞ্চলে বাড়ছে সুপারির উৎপাদন। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এদিকে গত বছরের চেয়ে এবার বাজারদর বেশ ভালো থাকায় খুশি সুপারি চাষিরা। এখানকার উৎপাদিত সুপারির গুণগতমান ভালো হওয়ায় তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এবার উৎপাদিত সুপারি থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছয় হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে সুপারির হয়েছে, যা থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন সুপারি। এ বিপুল পরিমাণ সুপারির বাজারদর প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। এদিকে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে লক্ষ্মীপুরে এবার সুপারির ফলন হয়েছে। এতে হাসি ফিরেছে সুপারি চাষিদের মুখে।

মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন হাটবাজারগুলোয় সুপারি কেনাবেচায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের সুপারি চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের তুলনায় বাজারদর এবার ভালো থাকায় খুশি সুপারি চাষিরাও। রায়পুর উপজেলার চরবংশী এলাকার কামরুল হোসেন, নজির মিয়াসহ কয়েকজন সুপারি চাষি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির দাম বেশি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সুপারির ফলনও হয়েছে বেশ। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা এলাকার কবির খাঁ, জামাল মিয়াসহ কয়েকজন সুপারি ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির বাজারদর ভালো। গেল বছর যেখানে প্রতি কাওন (১৬ পোন) সুপারি কেনাবেচা হতো ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকায়। এবার তা হচ্ছে ১৮শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়। প্রতি পোন (২০ গণ্ডা) সুপারি এখন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়। এখানকার উৎপাদিত সুপারি মানের দিক থেকে ভালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এর বেশ চাহিদা রয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ সুপারি বিক্রি হচ্ছে। দামও ভালো পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অঞ্চলে সুপারিভিত্তিক শিল্প–কারখানা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি লাভবান হতেন সুপারি চাষিরাও। লক্ষ্মীপুরের সুপারিকে সম্ভাবনাময় ফসল উল্লেখ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেলাল হোসেন খান জানান, আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করায় এ অঞ্চলে দিন দিন সুপারি চাষাবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। সুপারির সহায়ক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতো বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *